নামের অর্থ বাংলা

ব্লগ পোস্ট

ইশরাকের নামাজ পড়ার ফজিলত ও নিয়ম: বিস্তারিত জেনেনিন

প্রকাশ: November 30, 2025 ক্যাটাগরি: নামাজ
শেয়ার করুন:
সূচিপত্র

    ইশরাকের নামাজ পড়ার ফজিলত ও নিয়ম

    ইসলামে প্রতিদিনের ফরজ নামাজের পাশাপাশি কিছু নফল ইবাদত রয়েছে, যা বান্দার জন্য আল্লাহর নৈকট্য লাভের বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি করে। ইশরাকের নামাজ তেমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। এই নামাজ সূর্যোদয়ের পরে আদায় করা হয় এবং এর বিশেষ ফজিলত রয়েছে। আসুন, ইশরাকের নামাজের তাৎপর্য, নিয়ম ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।

    ইশরাকের নামাজ কি?

    ইশরাক আরবি শব্দ, যার অর্থ উজ্জ্বল বা দীপ্তি। ইশরাকের নামাজ হলো সূর্যোদয়ের পর আনুমানিক ১৫-২০ মিনিট (সূর্য এক বর্শা পরিমাণ উপরে উঠার পর) আদায় করা একটি নফল নামাজ। ফজর নামাজের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহর জিকির ও অন্যান্য ইবাদতে মশগুল থেকে, তারপর দুই রাকাত নামাজ আদায় করাকে ইশরাকের নামাজ বলা হয়।

    ইশরাকের নামাজের সময়

    ইশরাকের নামাজের ওয়াক্ত শুরু হয় সূর্যোদয়ের পর যখন সূর্য প্রায় এক বর্শা পরিমাণ উপরে ওঠে। সাধারণত সূর্যোদয়ের পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট অতিবাহিত হলে এই নামাজের সময় হয়। এই সময়ের পর থেকে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত ইশরাকের নামাজ পড়া যায়, তবে শুরুতেই আদায় করা উত্তম।

    ইশরাকের নামাজের নিয়ম

    ইশরাকের নামাজ দুই রাকাত করে আদায় করতে হয়। এই নামাজ আদায়ের নিয়ম সাধারণ নফল নামাজের মতোই। নিচে এর নিয়মাবলী উল্লেখ করা হলো:

    • নিয়ত: ইশরাকের নামাজ আদায়ের জন্য মনে মনে নিয়ত করতে হবে। যেমন: “আমি ইশরাকের দুই রাকাত নফল নামাজ কিবলামুখী হয়ে আদায় করছি।”
    • প্রথম রাকাত: তাকবীরে তাহরিমা বলে নামাজ শুরু করে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে। এরপর অন্য যেকোনো সূরা (যেমন সূরা ইখলাস, সূরা কাওসার) অথবা কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতে হবে। তারপর রুকু ও সিজদা আদায় করে প্রথম রাকাত শেষ করতে হবে।
    • দ্বিতীয় রাকাত: দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহা ও অন্য সূরা অথবা কুরআনের কিছু আয়াত তিলাওয়াত করতে হবে। এরপর রুকু ও সিজদা আদায় করে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করতে হবে।

    ইশরাকের নামাজের ফজিলত

    ইশরাকের নামাজের ফজিলত অনেক। হাদিসে এই নামাজের অনেক গুরুত্ব বর্ণিত হয়েছে। নিচে কয়েকটি ফজিলত উল্লেখ করা হলো:

    ১. হজ ও ওমরার সমতুল্য সওয়াব

    হাদিসে বর্ণিত আছে, যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত আল্লাহর জিকিরে মশগুল থাকে এবং এরপর দুই রাকাত ইশরাকের নামাজ আদায় করে, সে একটি হজ ও ওমরার সমতুল্য সওয়াব লাভ করে।

    তিরমিজি শরিফের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করে, অতঃপর সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত বসে আল্লাহর জিকির করে, এরপর দুই রাকাত নামাজ (ইশরাকের) আদায় করে, সে একটি হজ ও ওমরার সওয়াব পায়।” (তিরমিজি: ৫৮৬)

    ২. দিনের শুরুতে বরকত

    ইশরাকের নামাজ দিনের শুরুতে আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার কাছে বিশেষভাবে দোয়া করা হয়, যার ফলে সারাদিনের কাজে বরকত আসে। এই নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি আল্লাহর রহমতে দিনভর নিরাপদে থাকে এবং তার কাজগুলো সহজ হয়ে যায়।

    ৩. গুনাহ মাফের উপায়

    নিয়মিত ইশরাকের নামাজ আদায় করার মাধ্যমে বান্দার অনেক গুনাহ মাফ হয়ে যায়। এই নামাজ আল্লাহর কাছে তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার একটি উত্তম মাধ্যম।

    ৪. রিজিক বৃদ্ধি

    অনেকে মনে করেন, ইশরাকের নামাজ আদায় করলে আল্লাহ রিজিক বাড়িয়ে দেন। যদিও সরাসরি কোনো হাদিসে এর উল্লেখ নেই, তবে যেহেতু এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত, তাই এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হয় এবং তিনি বান্দার প্রতি রহমত বর্ষণ করেন, যা রিজিক বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।

    ইশরাকের নামাজ কেন পড়বেন?

    ইশরাকের নামাজ পড়ার অনেক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রধান কারণ নিচে উল্লেখ করা হলো:

    • আল্লাহর নৈকট্য লাভ: এই নামাজ আল্লাহর নৈকট্য লাভের একটি অন্যতম মাধ্যম।
    • সওয়াব অর্জন: ইশরাকের নামাজ আদায় করার মাধ্যমে হজ ও ওমরার সমতুল্য সওয়াব পাওয়া যায়।
    • গুনাহ মাফ: এই নামাজ গুনাহ মাফের একটি সুযোগ।
    • বরকত ও নিরাপত্তা: দিনের শুরুতে এই নামাজ আদায় করলে সারাদিনের কাজে বরকত আসে এবং আল্লাহ বান্দাকে নিরাপদে রাখেন।

    ইশরাক ও চাশতের নামাজের মধ্যে পার্থক্য

    অনেকের মনে ইশরাক ও চাশতের নামাজ নিয়ে confusion সৃষ্টি হয়। মূলত এই দুইটি নামাজের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। কিছু ইসলামী scholars মনে করেন, এই দুইটি একই নামাজ, শুধু সময়ের ভিন্নতার কারণে নামের ভিন্নতা হয়েছে। ইশরাকের নামাজ সূর্যোদয়ের পরপরই আদায় করা হয়, আর চাশতের নামাজ একটু দেরিতে, অর্থাৎ সূর্য আরও একটু উপরে উঠার পর আদায় করা হয়। তবে উভয় নামাজের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং সওয়াব লাভ করা।

    ইশরাকের নামাজ বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

    • ইশরাকের নামাজ জামাতে আদায় করা জরুরি নয়, এটি একাকী আদায় করাই উত্তম।
    • মহিলাদের জন্যও এই নামাজ পড়া অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
    • যদি কেউ ফজরের পর জিকির করতে না পারে, তবে সূর্যোদয়ের পর সরাসরি ইশরাকের নামাজ আদায় করতে পারবে।
    • এই নামাজ নফল ইবাদত, তাই এটি আদায় করা আবশ্যক নয়, তবে এর ফজিলত অনেক বেশি।

    উপসংহার

    ইশরাকের নামাজ একটি অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নফল ইবাদত। প্রত্যেক মুসলিমের উচিত এই নামাজের গুরুত্ব অনুধাবন করে নিয়মিত তা আদায় করার চেষ্টা করা। এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি এবং আমাদের জীবনকে বরকতময় করে তুলতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে ইশরাকের নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    আরও পড়ুন

    তাহাজ্জুদ নামাজ: ফজিলত, নিয়ম ও গুরুত্ব - বিস্তারিত

    তাহাজ্জুদ নামাজ একটি বিশেষ ঐচ্ছিক নামাজ যা রাতের শেষভাগে ঘুম থেকে জেগে আদায় করা হয়। এর ফজিলত অনেক এবং আল্লাহ্‌র নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম।

    শবে বরাত নামাজ কিভাবে পড়তে হয়: নিয়ম, নিয়ত ও ফজিলত

    শবে বরাত মুসলিম উম্মাহর জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহ তাআলার রহমত ও বরকত বর্ষিত হয়। শবে বরাতে নফল নামাজ পড়া, কুরআন তেলাওয়াত করা এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। শবে বরাত নামাজ কিভাবে পড়তে হয়, তা জানতে এই আর্টিকেলটি পড়ুন।

    ইশরাক নামাজ: নিয়ম, সময় ও ফজিলত - বিস্তারিত আলোচনা

    ইশরাক নামাজ একটি গুরুত্বপূর্ণ নফল ইবাদত। সূর্যোদয়ের পর এই নামাজ আদায় করা হয়। এর ফজিলত অনেক এবং নিয়মিত আদায় করলে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়।

    বিতর নামাজ কত রাকাত ও বিতর নামাজের সঠিক নিয়ম - বিস্তারিত জেনেনিন!

    বিতর নামাজ এশার নামাজের পরে আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নামাজ। এটি কত রাকাত, এর নিয়ম কি, এবং এই নামাজ পড়ার ফজিলত কি - এই সবকিছু নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা।

    নামাজ পিক: নামাজের ছবি তোলার বিধান ও প্রাসঙ্গিক বিষয়াবলী

    নামাজরত অবস্থায় ছবি তোলা বা 'নামাজ পিক' নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এই আর্টিকেলে আমরা ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে এর বিধান, উদ্দেশ্য এবং সমাজের উপর এর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

    এশার নামাজ কয় রাকাত সুন্নত ও ফরজ - বিস্তারিত জেনেনিন

    এশার নামাজ মুসলিমদের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের অন্যতম। এই নামাজে কয় রাকাত সুন্নত ও কয় রাকাত ফরজ, তা অনেকের কাছেই স্পষ্ট নয়। এই আর্টিকেলে এশার নামাজের রাকাত সংখ্যা ও নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

    মন্তব্য

    এখনো কোনো মন্তব্য নেই—আপনিই প্রথম লিখুন!

    আপনার মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশিত হবে।