Namer Ortho Bangla
নামাজ 29 November 2025

তারাবির নামাজ কত রাকাত ও এর নিয়মকানুন: বিস্তারিত গাইড

রমজান মাস মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। এই মাসে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি তারাবির নামাজ আদায় করা হয়। তারাবির নামাজ রমজানের বিশেষ একটি ইবাদত। অনেকেই জানতে চান তারাবির নামাজ কত রাকাত এবং এর নিয়মকানুন সম্পর্কে। এই আর্টিকেলে আমরা তারাবির নামাজের রাকাত সংখ্যা, নিয়ম, ফজিলত ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

তারাবির নামাজ কি?

তারাবি আরবি শব্দ ‘তারবিহাতুন’ থেকে এসেছে, যার অর্থ বিশ্রাম করা বা আরাম করা। রমজান মাসে এশার নামাজের পর যে নামাজ আদায় করা হয়, তাকে তারাবির নামাজ বলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার কারণে প্রতি চার রাকাত পর বিশ্রাম নেওয়ার বিধান রয়েছে, তাই এই নামাজকে তারাবির নামাজ বলা হয়। এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

তারাবির নামাজ কত রাকাত?

তারাবির নামাজ কত রাকাত, এ নিয়ে বিভিন্ন মত প্রচলিত আছে। তবে অধিকাংশ ইসলামিক পণ্ডিতের মতে, তারাবির নামাজ ২০ রাকাত।

২০ রাকাতের স্বপক্ষে যুক্তি:

  • সাহাবায়ে কেরামের আমল: হযরত উমর (রাঃ) এর শাসনামলে সাহাবায়ে কেরাম ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করতেন।
  • হাদিসের সমর্থন: যদিও সরাসরি ২০ রাকাতের কথা উল্লেখ নেই, তবে অনেক হাদিসে রাতের বেলা বেশি নামাজ পড়ার কথা বলা হয়েছে, যা ২০ রাকাত তারাবির ধারণাকে সমর্থন করে।
  • ইজমা: অধিকাংশ মুসলিম পণ্ডিত ২০ রাকাত তারাবির নামাজকে সমর্থন করেন এবং এটি মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

৮ রাকাতের স্বপক্ষে যুক্তি:

কিছু ইসলামিক পণ্ডিত মনে করেন তারাবির নামাজ ৮ রাকাত। তারা সাধারণত বুখারী শরীফের একটি হাদিস উল্লেখ করেন যেখানে রমজানে রাসূলুল্লাহ (সা.) এর রাতের বেলা নামাজ আদায়ের কথা বলা হয়েছে। তবে, এই হাদিসটি বিতরসহ রাতের নফল নামাজকে ইঙ্গিত করে, তারাবির নামাজকে নয়।

সিদ্ধান্ত: যদিও রাকাত সংখ্যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করাই উত্তম। কারণ, এটি সাহাবায়ে কেরামের আমল এবং অধিকাংশ ইসলামিক পণ্ডিতের মতামত অনুযায়ী সঠিক। তবে কেউ যদি অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে কম রাকাত আদায় করেন, তবে তাতেও কোনো সমস্যা নেই।

তারাবির নামাজের নিয়ম

তারাবির নামাজ এশার নামাজের পর আদায় করতে হয়। নিচে তারাবির নামাজের নিয়ম বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

নিয়ত:

প্রথমে তারাবির নামাজের জন্য নিয়ত করতে হবে। আরবিতে নিয়ত করা উত্তম। তবে, বাংলায় নিয়ত করলেও কোনো সমস্যা নেই। যেমন: “আমি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তারাবির দুই রাকাত নামাজ আদায় করার নিয়ত করছি।”

নামাজের পদ্ধতি:

  1. এশার নামাজের পর ইমামের সাথে তারাবির নামাজের জামাতে দাঁড়ান।
  2. সাধারণ নামাজের মতোই প্রথমে সূরা ফাতিহা ও অন্য একটি সূরা মিলিয়ে প্রথম রাকাত আদায় করুন।
  3. এরপর দ্বিতীয় রাকাত আদায় করুন।
  4. দুই রাকাত পর তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নামাজ শেষ করুন।
  5. প্রতি দুই রাকাত পর পর সালাম ফিরিয়ে দোয়া পড়া মোস্তাহাব।
  6. এভাবে ১০ সালামে ২০ রাকাত নামাজ আদায় করুন।

তারাবির মোনাজাত:

তারাবির নামাজ শেষে মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং রহমত কামনা করা হয়।

তারাবির নামাজের ফজিলত

তারাবির নামাজের অনেক ফজিলত রয়েছে। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ফজিলত উল্লেখ করা হলো:

  • গুনাহ মাফ: রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করার মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গুনাহ মাফ করে দেন।
  • জান্নাত লাভ: নিয়মিত তারাবির নামাজ আদায়কারী ব্যক্তি জান্নাত লাভ করবে।
  • আল্লাহর সন্তুষ্টি: তারাবির নামাজ আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি মাধ্যম।
  • বরকত লাভ: রমজান মাসে তারাবির নামাজ আদায় করার মাধ্যমে রোজার বরকত লাভ করা যায়।
  • মানসিক শান্তি: তারাবির নামাজ মনকে শান্ত করে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস বাড়ায়।

তারাবির নামাজ পড়ার সময়

তারাবির নামাজ এশার নামাজের পর থেকে শুরু করে সুবহে সাদেক পর্যন্ত পড়া যায়। তবে, এশার নামাজের পরপরই তারাবির নামাজ আদায় করা উত্তম।

মহিলাদের জন্য তারাবির নামাজ

মহিলারাও তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন। মহিলারা বাড়িতে জামাতের সাথে অথবা একাকী তারাবির নামাজ আদায় করতে পারেন। মসজিদে গিয়ে তারাবির নামাজ আদায় করা মহিলাদের জন্য উত্তম।

তারাবির নামাজ কাজা হলে করণীয়

যদি কোনো কারণে তারাবির নামাজ কাজা হয়ে যায়, তবে তা কাজা করার প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি নফল ইবাদত। তবে, কাজা হয়ে গেলে ইস্তেগফার করা উচিত।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়

  • তারাবির নামাজ ধীরে-সুস্থে এবং মনোযোগের সাথে আদায় করা উচিত।
  • কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া-দরুদ পড়ার মাধ্যমে তারাবির নামাজকে আরও ফজিলতপূর্ণ করা যায়।
  • তারাবির নামাজে ইমামের সাথে কোরআন শোনা অনেক সওয়াবের কাজ।
  • শারীরিক অসুস্থতা থাকলে বসে তারাবির নামাজ আদায় করা যায়।

উপসংহার

তারাবির নামাজ রমজান মাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত। এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায় এবং গুনাহ মাফ হয়। তাই, রমজান মাসে নিয়মিত তারাবির নামাজ আদায় করার চেষ্টা করা উচিত। এই আর্টিকেলে তারাবির নামাজ কত রাকাত, এর নিয়ম, ফজিলত এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি, এই তথ্যগুলো আপনাদের জন্য উপকারী হবে।