Namer Ortho Bangla
ঔষধের নাম 29 November 2025

স্ক্যাবিস রোগের ঔষধের নাম ও ব্যবহার বিধি: বিস্তারিত গাইড

স্ক্যাবিস কি?

স্ক্যাবিস (Scabies) একটি অত্যন্ত সংক্রামক চর্মরোগ। এটি সারকোপটেস স্ক্যাবি (Sarcoptes scabiei) নামক ক্ষুদ্র মাইট দ্বারা সৃষ্ট হয়। এই মাইট ত্বকের গভীরে ডিম পাড়ে, যার ফলে ত্বকে তীব্র চুলকানি, ফুসকুড়ি এবং অস্বস্তি দেখা দেয়। স্ক্যাবিস সাধারণত ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এটি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে।

স্ক্যাবিসের লক্ষণ

স্ক্যাবিসের প্রধান লক্ষণগুলো হলো:

  • তীব্র চুলকানি, বিশেষ করে রাতে
  • ত্বকে ছোট ছোট ফুসকুড়ি বা দানা
  • ত্বকের ভাঁজে (যেমন আঙ্গুলের মাঝে, কব্জিতে, বগলে, কোমরে, যৌনাঙ্গে) ছোট ছোট সুড়ঙ্গের মতো দাগ
  • ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ

শিশুদের ক্ষেত্রে, স্ক্যাবিস পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমনকি মুখ এবং মাথার ত্বকেও দেখা যেতে পারে।

স্ক্যাবিস রোগের ঔষধের নাম ও ব্যবহার বিধি

স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় সাধারণত নিম্নলিখিত ঔষধগুলো ব্যবহার করা হয়:

১. পারমেথ্রিন ক্রিম (Permethrin Cream)

পারমেথ্রিন ক্রিম স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত একটি ঔষধ। এটি মাইটগুলোকে মেরে ফেলে এবং চুলকানি কমায়।

ব্যবহার বিধি:

  1. গোসলের পর ত্বক শুকিয়ে নিন।
  2. ঘাড় থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত পুরো শরীরে ভালোভাবে পারমেথ্রিন ক্রিম লাগান।
  3. চোখ এবং মুখের আশেপাশে লাগাবেন না।
  4. ৮-১৪ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
  5. সাধারণত একবার ব্যবহারেই স্ক্যাবিস ভালো হয়ে যায়, তবে প্রয়োজনে ৭ দিন পর আবার ব্যবহার করা যেতে পারে।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

  • ত্বকে জ্বালা বা লালচে ভাব
  • চুলকানি বৃদ্ধি

২. আইভারমেকটিন (Ivermectin)

আইভারমেকটিন একটি মুখে খাওয়ার ঔষধ, যা স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে যাদের পারমেথ্রিন ক্রিম ব্যবহারে অসুবিধা হয় বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল।

ব্যবহার বিধি:

  1. ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ডোজে খেতে হয়।
  2. সাধারণত ২ সপ্তাহের ব্যবধানে দুটি ডোজ দেওয়া হয়।
  3. খালি পেটে সেবন করা উচিত।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

  • বমি বমি ভাব
  • মাথা ঘোরা
  • দুর্বলতা

৩. লিন্ডেন লোশন (Lindane Lotion)

লিন্ডেন লোশন একটি পুরনো ঔষধ, যা বর্তমানে তেমন ব্যবহৃত হয় না। কারণ এর কিছু গুরুতর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। তবে, অন্য ঔষধগুলো কাজ না করলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

ব্যবহার বিধি:

  1. গোসলের পর ত্বক শুকিয়ে নিন।
  2. ঘাড় থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত পুরো শরীরে ভালোভাবে লিন্ডেন লোশন লাগান।
  3. ৬ ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন।
  4. এটি শুধুমাত্র একবার ব্যবহার করার জন্য।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

  • খিঁচুনি
  • মাথা ঘোরা
  • ত্বকে জ্বালা

সতর্কতা: লিন্ডেন লোশন গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের জন্য উপযুক্ত নয়।

৪. ক্রোটামিটন (Crotamiton)

ক্রোটামিটন একটি ক্রিম বা লোশন যা স্ক্যাবিসের চুলকানি কমাতে সাহায্য করে। এটি মাইট মারতে পারে না, তবে চুলকানি উপশম করে আরাম দেয়।

ব্যবহার বিধি:

  1. গোসলের পর ত্বক শুকিয়ে নিন।
  2. আক্রান্ত স্থানে দিনে ২-৩ বার লাগান।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

  • ত্বকে জ্বালা
  • লালচে ভাব

৫. সালফারbased ঔষধ

সালফারBased ঔষধ স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় একটি প্রাচীন এবং কার্যকরী উপায়। সাধারণত শিশুদের এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য এটি নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।

ব্যবহার বিধি:

  1. ত্বকে লাগিয়ে সারা রাত রাখতে হয়।
  2. তারপর ধুয়ে ফেলতে হয়।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:

  • ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া
  • অ্যালার্জিক রিঅ্যাকশন

স্ক্যাবিসের চিকিৎসা চলাকালীন সতর্কতা

  • চিকিৎসা চলাকালীন সময়ে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
  • পরিবারের সকল সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের একই সময়ে চিকিৎসা করানো উচিত, এমনকি তাদের মধ্যে লক্ষণ না থাকলেও।
  • কাপড়, বিছানার চাদর এবং তোয়ালে গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ভালোভাবে রোদে শুকাতে দিন।
  • যেসব জিনিস ধোয়া যায় না, সেগুলো কমপক্ষে ৭২ ঘণ্টা একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে বন্ধ করে রাখুন।
  • ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং ভ্যাকুয়াম করুন।

স্ক্যাবিস প্রতিরোধে করণীয়

  • নিয়মিত হাত ধোয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
  • স্ক্যাবিস আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।
  • কাপড় ও অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

যদি আপনার স্ক্যাবিসের লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত একজন ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক রোগ নির্ণয় এবং সময়মত চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতা এড়ানো যায়।

উপসংহার

স্ক্যাবিস একটি নিরাময়যোগ্য রোগ, তবে এর জন্য সঠিক চিকিৎসা এবং সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। উপরে উল্লেখিত ঔষধগুলো স্ক্যাবিসের চিকিৎসায় সহায়ক হতে পারে, তবে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ ব্যবহার করা উচিত নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে স্ক্যাবিস থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।