Namer Ortho Bangla
ঔষধের নাম 29 November 2025

পাইলস এর এলোপ্যাথিক ঔষধের নাম ও আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

পাইলস, যা অর্শ্বরোগ নামেও পরিচিত, একটি অস্বস্তিকর এবং বেদনাদায়ক অবস্থা। এটি মলদ্বারের চারপাশে ফোলা শিরা দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এই সমস্যাটি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যার মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য, গর্ভাবস্থা এবং অতিরিক্ত ওজন অন্যতম। পাইলসের উপসর্গগুলি উপশম করার জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পদ্ধতি উপলব্ধ রয়েছে, যার মধ্যে এলোপ্যাথিক ঔষধ অন্যতম।

পাইলস কি?

পাইলস বা অর্শ্বরোগ হল মলদ্বারের ভেতরের বা বাইরের অংশে রক্তনালী ফুলে যাওয়া। এই ফোলা রক্তনালীগুলি ব্যথা, অস্বস্তি এবং রক্তপাতের কারণ হতে পারে। পাইলস সাধারণত দুটি প্রধান ধরনের হয়:

  • অভ্যন্তরীণ পাইলস: এগুলি মলদ্বারের ভিতরে থাকে এবং সাধারণত দেখা যায় না বা অনুভব করা যায় না।
  • বাহ্যিক পাইলস: এগুলি মলদ্বারের বাইরে থাকে এবং অনুভব করা যায়। এগুলি বেশি বেদনাদায়ক হতে পারে।

পাইলস কেন হয়?

পাইলসের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • কোষ্ঠকাঠিন্য: কঠিন মল ত্যাগ করার সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করা।
  • গর্ভাবস্থা: জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পাওয়ায় মলদ্বারের রক্তনালীর উপর চাপ সৃষ্টি হয়।
  • অতিরিক্ত ওজন: অতিরিক্ত ওজন শরীরের নিম্নাংশের রক্তনালীর উপর চাপ বাড়ায়।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা: একটানা বসে থাকলে মলদ্বারের রক্তনালীতে চাপ পড়ে।
  • ডায়রিয়া: দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়ার কারণেও পাইলস হতে পারে।

পাইলস এর লক্ষণ ও উপসর্গ

পাইলসের সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে:

  • মলত্যাগের সময় রক্তপাত: সাধারণত ব্যথাহীন রক্তপাত হয়।
  • মলদ্বারে ব্যথা বা অস্বস্তি: বিশেষ করে বসার সময় ব্যথা অনুভব করা।
  • মলদ্বারের চারপাশে ফোলা: ফোলাভাব অনুভব করা বা দেখা যাওয়া।
  • চুলকানি: মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি হওয়া।
  • মলদ্বার থেকে পিচ্ছিল জাতীয় পদার্থ নির্গত হওয়া।

পাইলস এর এলোপ্যাথিক ঔষধের নাম

পাইলসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু সাধারণ এলোপ্যাথিক ঔষধ নিচে উল্লেখ করা হলো:

মলম (Ointments)

পাইলসের প্রাথমিক পর্যায়ে মলম ব্যবহার করে উপসর্গ উপশম করা যায়। কিছু জনপ্রিয় মলম হল:

  • অ্যানোভেট (Anovate): এটি মলদ্বারের ব্যথা এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করে।
  • প্রোকটোসিল (Proctocyl): এই মলমটিতে লিডোকেইন (Lidocaine) থাকে, যা ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে।
  • শেরিং-রিং এনাল মলম (Scheriproct N Anal Ointment): এটি প্রদাহ কমাতে সহায়ক।

সাপোজিটরি (Suppositories)

সাপোজিটরি মলদ্বারের ভিতরে প্রবেশ করানো হয় এবং এটি ঔষধ নিঃসরণের মাধ্যমে কাজ করে। কিছু সাপোজিটরি হল:

  • ডলোপ্রোক্ট (Doloproct): এটি প্রদাহ এবং চুলকানি কমাতে ব্যবহৃত হয়।
  • অ্যানোভেট সাপোজিটরি (Anovate Suppository): মলদ্বারের ব্যথা কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়।

পেইন কিলার (Painkillers)

ব্যথা উপশমের জন্য কিছু পেইন কিলার ব্যবহার করা হয়:

  • প্যারাসিটামল (Paracetamol): হালকা ব্যথার জন্য এটি একটি সাধারণ ঔষধ।
  • আইবুপ্রোফেন (Ibuprofen): এটি প্রদাহ এবং ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

শিরা রক্ষাকারী ঔষধ (Veno-tonic Medications)

এই ওষুধগুলো শিরার স্বাস্থ্য উন্নতি করে এবং ফোলা কমাতে সাহায্য করে। যেমন:

  • ডায়োসমিন (Diosmin): এটি রক্তনালীকে শক্তিশালী করে এবং রক্ত প্রবাহ উন্নত করে।
  • হেস্পেরিডিন (Hesperidin): এটিও রক্তনালীকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।

অন্যান্য ঔষধ

  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ঔষধ: কোষ্ঠকাঠিন্য পাইলসের একটি প্রধান কারণ, তাই এটি দূর করার জন্য ল্যাক্সেটিভ (Laxative) ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাইলসের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি

এলোপ্যাথিক ঔষধের পাশাপাশি পাইলসের আধুনিক চিকিৎসায় নিম্নলিখিত পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করা হয়:

স্клеথেরাপি (Sclerotherapy)

এই পদ্ধতিতে, একটি রাসায়নিক দ্রবণ সরাসরি পাইলসের মধ্যে ইনজেকশন করা হয়, যা এটিকে সঙ্কুচিত করে এবং ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।

রাবার ব্যান্ড লিগেশন (Rubber Band Ligation)

এই পদ্ধতিতে, একটি ছোট রাবার ব্যান্ড পাইলসের গোড়ায় স্থাপন করা হয়, যা রক্ত সরবরাহ বন্ধ করে দেয় এবং পাইলসটি কয়েক দিনের মধ্যে শুকিয়ে যায়।

ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশন (Infrared Coagulation)

এই পদ্ধতিতে ইনফ্রারেড আলো ব্যবহার করে পাইলসের টিস্যু ধ্বংস করা হয়।

সার্জারি (Surgery)

মারাত্মক ক্ষেত্রে, সার্জারি একটি বিকল্প হতে পারে। সার্জারির মধ্যে রয়েছে:

  • হেমোরয়েডেক্টমি (Hemorrhoidectomy): পাইলস কেটে বাদ দেওয়া হয়।
  • হেমোরয়েডোপেক্সি (Hemorrhoidopexy): পাইলসকে তার জায়গায় সেলাই করে দেওয়া হয়।

পাইলস প্রতিরোধের উপায়

পাইলস প্রতিরোধের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • উচ্চ ফাইবারযুক্ত খাবার গ্রহণ: ফল, সবজি এবং শস্যজাতীয় খাবার বেশি করে খান।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করা: প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস জল পান করুন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা: নিয়মিত ব্যায়াম কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকা পরিহার করা: প্রতি ঘন্টায় কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করুন।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলা: কোষ্ঠকাঠিন্য যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
  • মলত্যাগের সময় বেশি চাপ প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকুন।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে?

যদি আপনি নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি অনুভব করেন, তবে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত।
  • তীব্র ব্যথা যা ঔষধের মাধ্যমেও কমছে না।
  • মলদ্বারের চারপাশে ফোলা এবং প্রদাহ।
  • অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে।

পাইলস একটি সাধারণ সমস্যা হলেও সঠিক চিকিৎসা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তাই, রোগের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন।